আল বাসাড ফাউন্ডেশন
আল বাসাড ফাউন্ডেশন একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যা সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও দুস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করে। আমরা বিশ্বাস করি দান কেবল একটি আর্থিক আদান-প্রদান নয়, বরং এটি একটি গভীর মানবিক সংযোগ — যেখানে দাতা ও গ্রহীতার মাঝে সম্মান ও মর্যাদা বজায় থাকে।
ফাউন্ডেশন গঠনের ইতিহাস
এস. এ. রিপন ভূঁইয়া
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি (২০২১-২০২৩)
আল-বাসাড ফাউন্ডেশন
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
“আর তোমরা সৎকাজে একে অপরের সহায়তা কর।” — (সূরা আল-মায়িদা: ২)
প্রিয় বংশধর এবং সম্মানিত শুভানুধ্যায়ীবৃন্দ,
আসসালামু আলাইকুম।
আজকের এই দিনে, ফাউন্ডেশনের প্রতিটি মাইলফলক অতিক্রম করার সময় আমি আমাদের প্রতিটি স্বজনের মুখচ্ছবি পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। “আমাদের বংশ, আমাদের প্রাণ”—এই স্লোগানটিকে হৃদয়ের গভীর থেকে পরম মমতায় ধারণ করে ‘আল-বাসাড ফাউন্ডেশন’-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল এক অদম্য প্রত্যয় নিয়ে। ২০২১ সালের ১লা জানুয়ারি, বিশ্ব যখন করোনা মহামারীর চরম অনিশ্চয়তায় থমকে ছিল, সেই কঠিন সময়ে আমাদের বংশের আমি সহ আরও চারজন মেধাবী স্বপ্নদ্রষ্টাকে সাথে নিয়ে আমরা এই উদ্যোগের বীজ রোপণ করি। পরবর্তীতে এই পাঁচজন স্বপ্নদ্রষ্টার সমন্বয়ে আমরা একটি অনলাইন গ্রুপ গঠন করি। আমাদের সেই দিনগুলোর কথা আজও মনে পড়ে—যখন বাংলাদেশের ব্যস্ত শহর ঢাকা, পাহাড়ি ঝরনার শহর চট্টগ্রামসহ সুদূর লন্ডনের গাম্ভীর্য, ফ্রান্সের শিল্পিত আবহে কিংবা সিঙ্গাপুরের কর্মচঞ্চলতায় থেকেও কখনো তারা তাদের ঐতিহ্যবাহী প্রিয় জন্মভূমি কুমিল্লা জেলার, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার, রহমতপুর (টাকই) গ্রামের বংশীয় শেকড়কে ভুলে যাননি। দেশে ও প্রবাসে অবস্থানরত এই তরুণদের সাথে নিয়ে দীর্ঘ ছয় মাস ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে নিরন্তর আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা আমাদের ফাউন্ডেশনের মূল রূপরেখা ও লক্ষ্য নির্ধারণ করি। ভৌগোলিক দূরত্ব আমাদের একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি, বরং হৃদয়ের টানে আমরা একসূত্রে গেঁথেছি। আমরা দিনের পর দিন, রাতের পর রাত অনলাইনে আলাপ-আলোচনায় মিলিত হতাম। এমনও রাত পার হয়ে গেছে, কখন যে ভোরবেলা হয়ে গেছে তা আমরা টেরই পাইনি। সেই অদম্য নিষ্ঠা ও পারস্পরিক আস্থার উপর ভিত্তি করেই আজকের এই ফাউন্ডেশনের জন্ম।
আমাদের সংগঠনটির নামকরণের জন্য অনেক আলোচনা পর্যালোচনা হয়, যেখানে অনেকেই সৃজনশীল নাম ও লোগো প্রস্তাব করেন। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর আমরা সংগঠনের নাম "আল-বাসাড ফাউন্ডেশন" ও আজকের এই লোগোটি প্রস্তাব আকারে চুড়ান্ত হয়। এখানে ‘বাসাড' কথাটির অর্থ হলো—‘সর্বোচ্চ স্থান, যেখান থেকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।’ আমাদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা ফাউন্ডেশনের কাজ সঠিক ভাবে পরিচালনা করার জন্য সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা পরিষদ গঠন করা হয়।এই পরিকল্পনা পরিষদ পরবর্তীতে আমাদের এই ফাউন্ডেশনের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম হিসেবে বিবেচিত হয়। এই ফোরামে আমাদের ফাউন্ডেশনের সকল বিষয় এজেন্ডা আকারে উপস্থাপন করা হয় এবং সকল আলোচনা পর্যালোচনার পর এখানেই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আবার পরবর্তীতে গৃহীত সিদ্ধান্ত গুলো বাস্তবায়নের জন্য কার্যকরী কমিটির সদস্যদের নিকট পাঠানো হয় ও তা সুন্দর ভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। আমরা আমাদের ফাউন্ডেশনে চেইন অব কমান্ড এবং আভ্যন্তরীণ শৃংখলা রক্ষায় বিশেষ নজরদারি করে থাকি।যাতে আমাদের সংগঠনটি সুন্দর ভাবে পরিচালনা করা সহজ হয়।
আমাদের ফাউন্ডেশনকে সুশৃংখল ভাবে পরিচালনার জন্য একঝাঁক মেধাবী তরুণদের সমন্বয়ে নির্বাহী পরিষদ(পরিকল্পনা ও কার্যকরী পরিষদ) ও একটি সাধারণ পরিষদ গঠন করি। পাশাপাশি সম্মানিত মুরুব্বিদের নিয়ে আমরা একটি উপদেষ্টা পরিষদ যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া, সদস্যদের কষ্টের উপার্জিত আমানতকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখা এবং প্রতিটি খরচে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও সততা নিশ্চিত করতে আমরা উপদেষ্টা পরিষদের তিন সদস্যের সমন্বয়ে একটি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো এবং পারস্পরিক সহযোগিতায় একটি স্বাবলম্বী সমাজ বিনির্মাণ করা। আজ আমাদের কাজের পরিধি দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে। আমাদের ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম শুধুমাত্র বংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আমাদের গ্রাম, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে চাই যাতে একটি উদাহরণ হিসেবে পরিগণিত হয়। আমাদের ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম দেখে সমাজে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হয় আমাদের দেখা দেখি আরও অনেক সংগঠন প্রতিষ্ঠা পায়।আল বাসাড যেন রোল মডেল হতে পারে।এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
বিশেষ করে, আগামী প্রজন্মের মেধা বিকাশে আমরা শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচ বহন, উপবৃত্তি প্রদান, বই-খাতা ও কলম বিতরণ এবং ভর্তি সহায়তার পাশাপাশি কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারে কাজ করছি। একই সঙ্গে, সমাজের গরিব, দরিদ্র, অসহায় মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ, দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, নারীদের আত্মনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে আমরা কারিগরি শিক্ষাসহ বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের আত্মকর্মমুখী করে গড়ে তোলার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি।
আজ আমাদের শতাধিক মেধাবী, তরুণ ও কর্মঠ সদস্য বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে থেকেও এই সংগঠনকে নিয়মিত বুদ্ধি পরামর্শ, উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছেন। আমাদের শেকড় পুরাতন বাড়ি’সহ প্রতিটি বাড়ির মানুষের অশিক্ষা ও দারিদ্র্য দূর করে নিজেদের স্বাবলম্বী ও আত্ম মর্যাদাশীল হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল অঙ্গীকার। আমরা কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিকট মাথা নত করতে চাই না।আমরা কেবল একটি সংগঠন নই বরং একটি পরিবার হিসেবে একে অপরের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের কার্যক্রম আজ বহুমুখী। আমাদের সংগঠনের প্রাণ প্রিয় প্রবাসী-যোদ্ধা ও দেশে অবস্থানরত চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা, আপনাদের সম্মিলিত সহযোগিতায় আমরা স্বচ্ছতার সাথে কাজ করছি। আমাদের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে পবিত্র মাহে রমজান মাসে ইফতার সামগ্রী ও ঈদ উপহার বিতরণ, অসুস্থদের চিকিৎসা সহায়তা, বয়স্ক ও অসহায়দের নিয়মিত সহায়তা প্রদান, প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন ‘জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা’ প্রদান, ‘বয়স্কদের পবিত্র আল-কোরআন শিক্ষা প্রকল্প’, ন্যায় বিচার প্রতিস্ঠা ও আইনি সহায়তা এবং যাকাতের সঠিক বণ্টনে অসহায়দের স্বাবলম্বী করে তোলা।
আমাদের প্রতিটি কাজের মূল প্রেরণা মহানবী (সা.)-এর এই পবিত্র বাণী: “সৃষ্টিকুলের মধ্যে আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় সে ব্যক্তি, যে মানুষের জন্য অধিক উপকারী।” এই আদর্শকে সামনে রেখেই আমরা সেবামূলক কাজে নিরলস এগিয়ে চলছি। আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই আমাদের সেই সকল প্রাণপ্রিয় প্রবাসী ও দেশে অবস্থানরত স্বজনদের প্রতি, যারা তাদের হাড়ভাঙা খাটুনি কিংবা ব্যবসার কষ্টার্জিত অর্থের একটি অংশ পরম মমতায় আমাদের সংগঠনের তহবিলে প্রেরণ করেন। আপনাদের এই ত্যাগ ও ভালোবাসা আমাদের কাজের মূল শক্তি। সংকটের প্রতিটি মুহূর্তে আপনারা যেভাবে ‘আল-বাসাড ফাউন্ডেশন’-এর ঢাল হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা আমাদের চলার পথকে সহজ ও অর্থবহ করেছে। আপনাদের প্রতিটি দান আমাদের কাছে পবিত্র আমানত, যার সর্বোচ্চ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার।
পরবর্তী প্রজন্মের প্রতি আমাদের আহ্বান হলো, আল-বাসাড ফাউন্ডেশন এখন আপনাদের হাতে একটি আমানত। আমরা চাই আমাদের এই ত্যাগের বীজ থেকে একদিন এমন একটি বিশাল বট বৃক্ষ গড়ে উঠবে, যার ছায়ায় বংশের প্রতিটি মানুষ এবং গ্রামের অসহায় মানুষ স্বাবলম্বী ও সুরক্ষিত থাকবে। আপনাদের মেধা, সততা এবং ভালোবাসা এই ফাউন্ডেশনকে সবসময় এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমাদের হৃদয়ে সবসময় ধ্বনিত হয় আল-বাসাড ফাউন্ডেশনের প্রাণের স্লোগান: “আমার জন্ম, আমার বংশ, আমাদেরই প্রাণ; জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো, গর্বে ভরে গেছে এ প্রাণ। তোমার দক্ষ ছেলেরা আজ ঐক্যবদ্ধ, মাগো, ভ্রাতৃত্ববোধে চির অম্লান।”
পরিশেষে, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের এই ঐক্যের বন্ধন অটুট থাকবে। আসুন, আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের প্রতিটি সদস্যকে একটি নিরাপদ ও সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখিয়ে যাই, যেখানে পরবর্তী প্রজন্ম গর্বের সাথে বলতে পারবে, —"আল-বাসাড ফাউন্ডেশন" ছিল আমাদের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। আপনাদের সুচিন্তিত পরামর্শ এবং অটল ভরসাই আমাদের এগিয়ে চলার প্রধান প্রেরণা। আমরা যেন সব সময় মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত রাখতে পারি, তাই সকালের দোয়া ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।আল্লাহ হাফেজ।
আমাদের সেবা
আলহাজ্ব মোঃ নোয়াব মিয়া
প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক
আল বাসাড ফাউন্ডেশন
তবে সেবাই তোমার পূঁজি।
যদি খুলতে চাও নাজাতের( মুক্তির) দরওয়াজা,
তবে করো দান-সদকা হর-হামেশা।
সমস্ত প্রসংশা মহান রাব্বুল আলামিনের জন্য উৎসর্গিত। সালাত ও সালাম এবং শান্তি ও কল্যাণ মহান রাসুলুল্লাহ সাঃ এর প্রতি, তার সমস্ত আল-আছহাবের প্রতি নিবেদিত। কেয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁদের আন্তরিক অনুগামী, তারা সবাই যেন এর সঙ্গে যুক্ত হউন, আর যুক্ত করুন আল-বাসাড ফাউন্ডেশনের সকল দায়িত্বশীল সদস্য, কর্ম, সেবা, পরিকল্পনাকে, আমীন।
প্রিয় আল-বাসাড ফাউন্ডেশনের দায়িত্বশীল সদস্য বৃন্দ, আমাদের অন্তরে ও অন্তর্জগতে এখন আল্লাহর সন্তুষ্টির আশ্চর্য এক তরঙ্গদোলা, কারণ মহান রাব্বুল আলামিন তার দেওয়া উত্তম কর্ম, আমাদেরকে করার তৌফিক দান করেছেন। আমাদের সেবা যেহেতু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, সেহেতু সপ্তম আকাশের উপর থেকে নাজিল হওয়া স্রষ্টার দেওয়া কর্মসূচী, স্রষ্টার সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাঃ এর প্রদর্শিত স্রেষ্ঠ পদ্ধতিই আমাদের সেবার পদ্ধতি। প্রাণপ্রিয় দায়িত্বশীল সদস্য বৃন্দ, বর্তমান আমাদের ডাকে কঠিন দায়দায়িত্বের দিকে, ভবিষ্যৎ ডাকে অনিশ্চিয়তার দিকে। শুধু অতীত আমাদের নিয়ে যায় শান্তি ও প্রশান্তির দিকে। আমরাতো সেই উম্মার সন্তান, যাদের অতীত গর্বের ও গৌরবের। তাই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েই আমাদের সেবার যাবতীয় কার্যক্রম শুরু করেছিলাম। যখন শুরুটা করেছিলাম তখন জাঁকজমকপূর্ণ না হলেও আগ্রহ, উদ্দীপনা, আবেগ, অংশগ্রহণে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য ছাড়িয়ে যায়। শুরু হলো এক আদর্শিক কর্মজজ্ঞ, যা থামবার নয়, দরিদ্র অসহায়, বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু পদযাত্রীর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা, সুস্থ হয়ে পরিবারে ফিরে আসা, পিতৃ হারা কন্যার ভরনপোষণ, বিয়ে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যায় ক্ষতিগ্রত মানুষের ঘরে ঘরে ত্রান পৌঁছে দেওয়া, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা নির্মাণ করা, রাস্তায় ব্রিজ নির্মাণে অর্থ ব্যয় করা, ভেঙ্গে পরা ঘর নির্মাণ করা, বেকারত্ব দুর করে স্বাবলম্বী করা। দরিদ্র কৃষককে কৃষি সামগ্রী প্রদান করা, গৃহপালিত পশু গরু-ছাগল দান করে স্বাবলম্বী করা, সেলাই মেসিন প্রদান করে মহিলাদের স্বাবলম্বী করা,সেনিটারি লেট্রিন, বিশুদ্ধ পানির জন্য টিউবওয়েল প্রদান, রমজানে ইফতার সামগ্রী, ঈদে ঈদ উপহার( ফুড প্যাকেজ) এ যেন আল-বাসাড ফাউন্ডেশনের অনন্য আয়োজন, সবার মুখে ফুটবে হাসি, ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি। চলতি বছরে নতুন কর্মসূচি ইসলামি সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ইসলামি শিক্ষা অর্থাৎ কুরআন শিক্ষার আয়োজন, জেনারেল শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপকরণ ও বৃত্তি প্রদান, ঋণগ্রস্ত দরিদ্র অসহায়কে ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া, স্বাবলম্বী করার মতো অসংখ্য কর্মজজ্ঞ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রশ্ন জাগতে পারে এইসব সেবার অর্থ কোথায় থেকে আসলো? আপনারা যারা আল-বাসাড ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত তারা অর্থের উৎস সম্পর্কে অবগত আছেন। তারপরও উল্লেখ করছি, আল-বাসাড ফাউন্ডেশনের যারা কর্মজীবি (দেশ ও প্রবাসে) সদস্য রয়েছেন, তাদের আন্তরিক অংশগ্রহণে এই অসম্ভব সেবা গুলোকে সম্ভব করে তুলেছে। কষ্টে কারো চোখে পানি আসার আগেই আল-বাসাড ফাউন্ডেশনের সকল দায়িত্বশীল সদস্যদের অন্তর কাঁদে। মহান রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টির জন্য তারা এ কাজ আমৃত্যু চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে। বর্তমানে আমরা সেবার ব্যপকতার লক্ষ্যে বহু কর্মজজ্ঞের পরিকল্পনা করছি, যা আল-বাসাড ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করেছি এবং করবো। শেষ করবো রাসুলুল্লাহ সাঃ এর হাদিস দিয়ে, তিনি বলেন তোমাদের মাঝে এমন কে আছে, যার কাছে নিজের সম্পদের চেয়ে ওয়ারিশদের সম্পদ বেশি প্রিয়? সাহাবায়ে কেরাম রাঃ. বললেন হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের মাঝে তো এমন কেউ নাই। তিনি বললেন, মনে রেখো,নিজের সম্পদ সেইটুকু, যা অগ্রে (দান করা হয়েছে) পাঠানো হয়েছে। আর যেটুকু দুনিয়াতে রেখে যাবে, তা ওয়ারিশদের সম্পদ।
একাদা আহনাফ বিন কায়িস রহ, এক ব্যাক্তির হাতে একটি দিরহাম দেখে বললেন, 'এটি কার? ' লোকটি বলল আমার। তিনি উপদেশ দিয়ে বললেন, 'এটিকে কোন কল্যাণ কাজে ব্যয় করা বা দান-সদকা করে দেওয়া ছাড়া কখনোই তোমার হবে না।
দানের মহিমায় আমাদের অন্তর করো পূর্ণ,
দুনিয়া আখিরাতে মোদের করো ধন্য,
ইয়া রাব্বুল আলামিন।
আল-বাসাড ফাউন্ডেশনের সকল দায়িত্বশীল, সদস্য, সেবার কার্যক্রমকে কবুল করুন। আমিন।
ফাউন্ডেশনের মিশন ও ভিশন
মু. আবু কাউসার
সাধারণ সম্পাদক
আল বাসাড ফাউন্ডেশন
মহান আরশের মালিকের সহস্র কোটি শুকরিয়া আদায় করার মাধ্যমেই শুরু করছি, আমার প্রানের প্রিয় সংগঠন "আল বাসাড ফাউন্ডেশন" কে নিয়ে কিছু কথা লিখতে পেরে আমি আজ নিজেকে অনেক গর্বিত ও আনন্দিত বোধ করছি। "আমাদের বংশ, আমাদের প্রাণ" এই শ্লোগান টি বুকে ধারন করে ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর, হাটি হাটি পা পা করে আমাদের ফাউন্ডেশনের কাজ আজকের এই দিন পর্যন্ত আমরা নিয়ে আসতে পেরেছি। এর জন্য আমি মনে করি সকল ক্রেডিট মহান রবের মেহেরবানী ও আমাদের ফাউন্ডেশনের সকল সদস্যদের। যাদের আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও সার্বিক সহযোগিতা না পেলে আমাদের ফাউন্ডেশনের কাজ গুলো আনজাম দেয়া এতো সহজ ও কার্যকর ভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে যেত। এই সংগঠনের সকল কাজ গুলো শুধু মাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই আমরা পরিচালনা করে থাকি। লোক দেখানোর জন্য নয়।
আমরা যখন এই ফাউন্ডেশন গঠন করা নিয়ে চিন্তা শুরু করেছি, বিষয়টি প্রথম দিকে এতো সহজ ছিল না। নানা জন নানা ধরনের মত দিয়েছেন কিছু পক্ষে ছিল আবার অনেকে বিপক্ষেও ছিলেন। নেগেটিভ ও পজিটিভ অনেক কিছুই শুরুর দিকে মেনে নিয়ে এগোতে হয়েছে। শুরুর দিকে ফাউন্ডেশন গঠন করা বিশাল একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। পাশাপাশি আমাদের গ্রামে আগে থেকেই ছোট বড় অনেক ফাউন্ডেশন গড়ে উঠে ছিল। ঐ সকল গতানুগতিক ফাউন্ডেশনের মধ্যে আমাদের সংগঠনটিকে আলাদা ও বিভিন্ন ভাবে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য আমাদের সকলের মেধা, শ্রম ও আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করতে হয়েছে।
আমারা সকলে অবগত, যে মা গর্ভে সন্তান ধারণ করে, সেই মা জানে সন্তান প্রসব বেদনা ও সন্তান লালন পালন করতে কি কষ্ট অনুভব করতে হয়। এই জন্যই সন্তানের প্রতি মায়ের টান ও ভালোবাসা কেমন থাকবে। আমরা যারা এই ফাউন্ডেশনটি গঠনে শুরু থেকে অংশ গ্রহণ করেছি সময় ও শ্রম দিয়েছি। আমারা জানি এতে কি পরিমান এফোর্ড দিতে হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে একজন স্বপ্নবাজ মানুষ। আমি স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। আমাদের ফাউন্ডেশনের কাজ গুলো আনজাম দেয়া সহজ হয়েছে কারণ আমার পাশে এমন কিছু উদার, যোগ্যতা সম্পন্ন মেধাবী, আন্তরিকতা ও সৃজনশীল মানুষদের কাছে পেয়েছি যারা যে কোন সমস্যাকে সমাধান করতে জানে, ভয়কে জয় করতে পারেন এবং এককথায় যারা অদম্য। পাশাপাশি আমাদের সদস্যদের কথা বলতে হলে এককথায় বলতে হবে অসাধারণ, যে কোন সমস্যায় সহযোগিতার হাত এগিয়ে নিয়ে আসে। যাদের কে নিয়ে আমি গর্ব বোধ করি। I am really proud of you all.
আমি সকলের নিকট দোয়া কামনা করি, যে কোন ধরনের ষড়যন্ত্র ও বদ নজর থাকে আল্লাহ পাক যেন আমাদের এই প্রান প্রিয় সংগঠনটি কে হেফাজত করেন। আমি চাই আমাদের এই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আমাদের বংশের মানুষের সকল ধরনের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে যাবে। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে সাহায্য সহযোগিতা করে সমস্যা সমাধানে ভূমিকা পালন করবে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভালো রেজাল্ট করতে সাহায্য করে, বেকার যুবকদের দক্ষতা অর্জন করে ভালো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি অসুস্থ মানুষের সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, অসহায় পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে ভুমিকা পালন করা হবে। আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে আমাদের ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আমাদের বংশের অসহায় ও দরিদ্র কোন মানুষ থাকবে না। তারা যেন কোন মানুষের নিকট হাত না পাতে। অন্য কোন মানুষের নিকট মুখাপেক্ষি না হয়। আমাদের স্বপ্ন বংশের সকল শিক্ষার্থী বিসিএস অফিসার, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, এডভোকেট, আইটি ইঞ্জিনিয়ার সকল ক্ষেত্রে অংশ গ্রহণ করে নিজেদের অবস্থান তৈরি করবে।
প্রথম দিকে আমাদের ফাউন্ডেশনের কাজ গুলো নিজেদের বংশের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে পাশাপাশি গ্রামের অন্যান্যরা যেন আমাদের ফাউন্ডেশনের দেখা দেখি তারাও এগিয়ে আসে ও ভুমিকা পালন করে। গ্রামের সাধারণ মানুষের পাশেও আমাদের ফাউন্ডেশনের কাজ অব্যাহত থাকবে। আমরা মনে করি নিজের ঘর আগে শক্তিশালী করা প্রয়োজন পরবর্তীতে অন্যদের নিয়ে কাজ করতে হবে। আপনি নিজেই স্বাবলম্বি না হলে অপরকে সহযোগিতা করা সহজ হবে না। কারন সামাজিক কাজ করতে হলে অর্থ, সময় ও শ্রম লাগবে। নিজের যোগ্যতা ও আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকলে আপনি অন্যের বিপদে পাশে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
আমাদের মিশন: সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আগামী দিনে নিজেদের যোগ্যতা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। পাশপাশি আমাদের গ্রামের সাধারণ অসহায় মানুষের পাশে স্বাধ্য মত দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।
আমাদের ভিশন: আমরা আমাদের ফাউন্ডেশনের কাজ শুধু বংশ ও গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ের আরো ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করা যায় আমরা চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। এতো টুকু অন্তত করতে চাই যে আমাদের ফাউন্ডেশনের কাজ দিয়ে যেন ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ের উদাহরণ তৈরি করা যায়। মানুষের মধ্যে এমন সচেতনতা তৈরি হয় যাতে আমাদের ফাউন্ডেশন কে মডেল হিসেবে গ্রহণ করে।
"আল বাসাড ফাউন্ডেশন তার যশ, খ্যাতি ও সুনাম অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে পাশাপাশি সকলের নিকট দোয়া ও শুভকামনায় এখানে শেষ করছি।"
অনুভূতি প্রকাশ
ফাউন্ডেশনের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দের কিছু কথা ও তাদের অনুভূতি।
সভাপতির অনুভূতি
মোহাম্মদ শাহ পরান
সভাপতি
আল বাসাড ফাউন্ডেশন
সম্মানিত সুধি, শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধুমহল,গ্রামবাসী ও আমার প্রিয় সকল সদস্যবৃন্দ আসসালামুয়ালাইকুম। প্রত্যাশা করছি সকলেই মহান রবের অশেষ কৃপায় ভালোই আছেন। আমাদের সবার প্রিয় সংগঠন"আল বাসাড ফাউন্ডেশন" পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বছর পার করে এতো দূর পর্যন্ত এসেছে তার জন্য মহান প্রভুর দরবারে প্রশংসা জানাই।আজ আমারা সংগঠনের জন্যে এমন একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে নিজস্ব একটি ওয়েব সাইট তৈরি করতে পেরে মহান রবের শুকরিয়া আদায় করছি। আমাদের প্রিয় সংগঠনটি আজ থেকে ডিজিটালি পরিচালিত হবে এতে সকলের পাশে থাকতে পেরে আমি নিজে অনেক Proud ফিল করছি। আমাদের এই সংগঠনটি পরিপূর্ণ সামাজিক সেবামূলক সংগঠন।আমি মনে করি বংশের ধনী গরীব সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে রাখার জন্য সেবামূলক কাজের কোন বিকল্প নাই। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানী ও ফাউন্ডেশনের সকল সদস্যদের আন্তরিকতা,ভালোবাসা ও সার্বিক সহযোগিতায় আমাদের সংগঠনটি ঐক্য গড়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আশা করি আমাদের এই সংগঠনের সেবামূলক কাজ দ্বারা গ্রামের ও বংশের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারবে এবং তাদের মুখে হাসি ফোটাতে সাহায্য করবে। এমনকি পরবর্তী জেনারেশন এই সংগঠন থেকে অনেক বেশী সুবিধা ভোগ করতে পারবে।আমাদের ফাউন্ডেশন অসহায় মানুষের পাশে থেকে সমাজের উন্নয়নে ভুমিকা রাখবে। আমি বিশেষ করে আরও একটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই যে , সংগঠনের দায়িত্ব পালন কালে আমার পাশে একঝাঁক মেধাবী যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তি পেয়েছি যাদের কারণে আমার কাজ গুলো আনজাম দেয়া অনেক সহজ হয়েছে।তার জন্য আমি সকলের নিকট কৃতজ্ঞ।
আমি আশাবাদী সংগঠনের সকল ভালো কাজে বিগত দিনের ন্যায় আগামী দিন গুলোতে সকলের সার্বিক সহযোগিতা পাবো ইনশাআল্লাহ।আমি আরও আশা করছি যে, আল বাসাড ফাউন্ডেশন অনেক বেশি সামনে এগিয়ে যাবে ও মহান প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারবে। সকলের নিকট দোয়া কামনায় শেষ করছি।
সিনিয়র সহ-সভাপতির অনুভূতি
মোঃ মিজানুর রহমান
সিনিয়র সহ-সভাপতি
আল বাসাড ফাউন্ডেশন
সম্মানিত সুধি, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সকল সদস্যবৃন্দ আসসালামুয়ালাইকুম। আশা করি সকলেই আল্লাহ অশেষ মেহেরবানীতে ভালো আছেন। "আল বাসাড ফাউন্ডেশন" হাটি হাটি পা পা করে এতো দূর পর্যন্ত এগিয়ে এসেছে এবং একটি দারুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পেরেছে আজকের এই দিনে নিজস্ব একটি ওয়েব সাইট তৈরি করার কথা শুনে মনটা আমার অনেক ভরে উঠেছে তাই সাথে সাথে মহান রবের শুকরিয়া আদায় করছিলাম। আমাদের প্রিয় সংগঠনটি আজ ডিজিটাল যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথে অগ্রসর হচ্ছে এতে সকলের সাথে পাশে থাকতে পেরে আমি অনেক গর্ব ও আনন্দ বোধ করছি। আমাদের এই সংগঠনটি পরিপূর্ণ সামাজিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন। আমি মনে করি এইটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের জন্য সেবামূলক কাজের কোন বিকল্প নাই। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানী ও ফাউন্ডেশনের সকল সদস্যদের আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও সার্বিক সহযোগিতায় আমাদের ফাউন্ডেশন এতো দূর আসতে পেরেছে। আশা করি আমাদের এই সংগঠনের সেবামূলক কাজ দ্বারা আরও অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে যাবে এবং ভবিষ্যত প্রজন্ম এখান থেকে অনেক বেশী সুবিধা ভোগ করতে পারবে। যা সাদাকা হিসেবে পরিগনীত হবে। আসলে আমি ব্যক্তিগতভাবে সমাজের জন্য বা মানুষের জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা করি, আল বাসাড ফাউন্ডেশন মানুষের পাশে থেকে সমাজ সেবার কাজটি আমার জন্য সহজ করে দিয়েছে।
আমি কথা দিলাম এই সংগঠনের সকল ভালো কাজে আমার সাধ্য মত পাশে থাকার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। আমি আশাবাদী আল বাসাড ফাউন্ডেশন উত্তর উত্তর আরও বেশি উন্নতি করবে ও মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনে কাজ করবে। সকলের নিকট দোয়া ও শুভকামনায় বিদায় নিলাম।
সাধারণ সম্পাদকের অনুভূতি
মু. আবু কাউসার
সাধারণ সম্পাদক
আল বাসাড ফাউন্ডেশন
আসসালামুয়ালাইকুম। সম্মানিত সুধি, আপনজন ও আল বাসাড পরিবারের সকল সদস্যদের জানাই লাল গোলাপের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আশা করছি সকলেই আল্লাহর অশেষ রহমতে কর্মব্যস্ত জীবনে ভালো আছেন। আমার প্রাণের সংগঠন "আল বাসাড ফাউন্ডেশন" শিশু থেকে কৈশোরে পদার্পণ করেছে ভাবতেই অনেক আনন্দ ও গর্ব অনুভব হয়। এরই মধ্যে দেখতে দেখতে পাচ বছর পার হয়ে গেছে।আমাদের সংগঠনটি সহজ ও সুন্দর ভাবে পরিচালনা করার জন্য নিজস্ব এই ওয়েব সাইটটি তৈরি করা হয়েছে। মহান রবের শুকরিয়া আদায় করছি যে আমাদের প্রিয় সংগঠনটি আজ থেকে ডিজিটালি পরিচালিত হবে। এতে অনেক কাজ সহজ হয়ে যাবে। আমাদের ফাউন্ডেশন ঐক্যবদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে অগ্রনী ভূমিকা পালন করবে বলে আমি সবসময় আশা করি। আল্লাহ যেন আমাদের এই লক্ষ্য অর্জনে সফল করেন। আমীন। আমি বিশ্বাস করি যে, আমাদের ফাউন্ডেশনের সকল সদস্যদের আন্তরিকতা,ভালোবাসা ও সার্বিক সহযোগিতায় থাকলে আমাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে অবশ্যই পৌঁছাতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।আমি আরও আশা করি আমাদের এই সংগঠনের সেবামূলক কাজ দিয়ে গ্রামের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মনে একটু হলেও স্থান করে নিতে পারবো। আমরা এই সংগঠনের মাধ্যমে এমন কিছু কাজ করে যেতে চাই যে গ্রামে মানুষের মধ্যে উদাহরণ হিসেবে থাকবে। নতুন প্রজন্ম যেন গর্ব বোধ করে বলতে পারে আমি "আল বাসাড ফাউন্ডেশনের" গর্বিত সদস্য। আমি জানি মানুষের জন্য ভালো কিছু করতে চেষ্টা করলে অনেক ধরনের বাধা আসবে, আর এই বাঁধা অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে হবে।আমাদের ফাউন্ডেশন মানুষের পাশে থেকে সমাজ সেবা মূলক কাজ গুলো করার একমাত্র কারণ হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। লোক দেখানোর জন্য নয়।
আমি মনে করি আমাদের এই সংগঠনের কাজ শুধু দান দখিনা করাই না আল বাসাড পরিবারের মানুষ গুলোকে কিভাবে ঐক্যবদ্ধ করা যাবে, মেরুদন্ড শক্তিশালী করা, মর্যাদাশীল হিসেবে নিজেদের কিভাবে গড়ে তোলা যায় ও অন্যের গোলামী করা বা অন্যের নিকট মাথা নত করা থেকে বিরত রাখবে। প্রতিটি সদস্যদের এই গুরুত্বপূর্ণ কথা গুলো হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।আল বাসাড ফাউন্ডেশন সেবা মূলক কাজের পাশাপাশি সদস্যরা নিজেদের দক্ষতা অর্জনে কাজ করবে এবং আমাদের সংগঠনটি আরও বেশি সামনে এগিয়ে যাবে এবং মহান আরশের মালিকের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারবে। সকলে মোনাজাতে শরীক রাখবেন এই শুভকামনায় আজকের মতো বিদায় নিলাম।
সদস্য তালিকা
আমাদের সদস্যদের তালিকা পরিচালনা পর্ষদ ও সদস্য তালিকা পাতায় দেখা যাবে।
সভার কার্যবিবরণী
বিগত সভার কার্যবিবরণী শীঘ্রই এখানে প্রকাশ করা হবে।